বলুদেওয়ান- মেলা ও জীবনী

মোঃ তৌহিদুল আলম

শতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে।
শতত তোমার কথা ভাবি এ বিরলে।

কবি মধুসূদন ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে যে নদীটির কথা স্মরণ করেছেন; যার স্মৃতি তাকে ভাবিয়ে তুলেছে বারবার সেই স্বচ্ছ সলিলা কপোতাক্ষ নদের তীরে অবস্থিত চৌগাছা উপজেলার হজরাখানা গ্রামটি। নদীর পাড়ে উঁচু ঢিবি। তারই উপর এ অঞ্চলের বিখ্যাত পীর বলুদেওয়ানের মাজার। স্থানীয় লোকে এটিকে রওজা শরীফ বলে আখ্যায়িত করে। এখান থেকে সোজা পশ্চিম দিকে কিছু দুর এগুলেই গ্রামের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এর আশে পাশে রয়েছে সবুজ প্রান্তর। মাঝে মাঝে আম কাঁঠাল গাছ আর বাঁশ ঝাড়। এরই মাঝে ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গলবারে বসে বিশাল এক মেলা। স্থানীয় লোকে এটিকে ”দিশের বাজার” বলে জানে। বাইরে অবশ্য ”বলুদেওয়ানের মেলা ” নামেই পরিচিত। শরতের মধ্যভাগে এ মেলা উপলক্ষে পার্শ্ববর্তী গ্রামাঞ্চলে কি যে ধুম পড়ে যায় তা বর্ণনাতীত । দেশ দেশান্তর থেকে হাজির হয় ফেরিওয়ালা, দোকানী,পসারিরা দোকান সাজায় হরেক রকম দ্রব্য সম্ভার দিয়ে। দু দিন সকাল সন্ধ্যা চলে বেচাকেনা- সৃষ্টি হয় এক আনন্দ ঘন মূহুর্ত। তারপর সব কিছু স্তিমিত করে শেষ হয় মেলা । সবাই মনের আনন্দে ঘরে ফেরে। প্রতি বছর এভাবে একবার করে মেলা বসে আর ভেঙ্গে যায়। কিন্তু যে উপলক্ষকে কেন্দ্র করে মেলাটির উৎপত্তি সে সম্বন্ধে কেউ আজ ভেবে দেখে না । আর ভাববার সময়ই বা কোথায়! সবাই তো মেলার আনন্দঘন মুহুর্তগুলি উপভোগে ব্যস্ত। কিন্তু কৌতুহলী মানুষ এতেই সন্তুষ্ট নয় । কি করে এটির উৎপত্তি হলো তাদেরকে ভাবিয়ে তোলে । তাদের এই কৌতুহল মিটানোর জন্যই এ নিবন্ধের অবতারণা । হাজরাখানা গ্রামের এ মেলাটির উৎপত্তি কাহিনী যে কত বিস্ময়কর, অদ্ভুত আর চমকপ্রদ তা আর বলার নয়। কিন্তু সে কাহিনী বলার আগে এ দেশের কি কি উৎস থেকে মেলারা উৎপত্তি হয় সে সম্বন্ধে কিছু বলে নেয়া যাক।

এ দেশে সাধারণত: মেলার উৎপত্তি হয়ঃ-

  1. ধর্মীয় পালা পার্বন স্বনামধন্য পীর আউলিয়াদের জন্ম মৃত্যু বর্ষিকীকে উপলক্ষ করে।
  2. হিন্দু ঘর্মের দেবতাদের সম্ভাব্য জন্ম মৃত্যু দিন কল্পনা করে,
  3. হিন্দু মুসলিম বৌদ্ধ (খৃষ্ট-শুধু কল ভিত্তিক বাংলা )প্রভৃতি সমপ্রদায়ের স্মরণীয় কোন দিন বা পর্বকে কেন্দ্র করে,
  4. কোন খ্যাতনামা হাট বাজার প্রভৃতিকে কেন্দ্র কর,
  5. কোন খ্যাতিমান কবি সাহিত্যিক কিংবা স্বনামধন্য ব্যক্তি বর্গের জন্ম মৃত্যু দিবসকে কেন্দ্র কর,
  6. এ ছাড়াও ঘোষণা দিয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে কোন উপলক্ষকে কেন্দ্র করেও মেলার উৎপত্তি করা হয়।

আমাদের আলোচ্য বলুদেওয়ানের মেলাটি এ অঞ্চলোর লোকমুখে সর্বাধিক আলোচিত পীর বলুদেওয়ানের মৃত্যু বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠিত হয় । পীর াবলুওেয়ান অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। লোক মুখে শোনা যায় তিনি যা বলতেন তাই হতো । কিন্তু তাঁর জীবন কাহিনী m¤^‡Ü তেমন কোন নির্ভরযোগ্য তথ্য আজ আর পাওয়া যায় না । আর যা াকিছু পাওয়া যায় তার সমপূর্ণ টাই কিংবদনতীতে ভরা। জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যু পর্যন্ত তার জীবনের প্রতিটি ঘনাই রহস্যের জালে আবৃত। লোক মুখে শোনা যায় তিনি যাাত্রাপুর গ্রামের এক কৃষক পরিবারে জন্ম গস্খহণ করেন। তাঁর পিতার নাম ছিল ছুটি বিশ্বাস তবে জন্মকাল m¤^‡Ü তেমন কোন নির্ভর যোগ্য তথ্য আজ আর পাওয়া যায় না । স্থানীয় বয়ঃবৃদ্ধ ব্যক্তিবর্গের অনুমান- তিনি ৩/৪ শো বছর আগে জস্মেছিলেন। কেউ কেউ বলেন জন্মবার অল্প কাল পরোই তাঁর পিতা মারা যান । আবার অনেকের মতে তাঁর পিতা অনেক দিন বেঁচে ছিলেন । এই দুটি মত তাঁর জীবন কাহিনীকে দুটি খাতে প্রবাহিত করেছে।

দ্বিতীয় মতানুসারে-বলুদেওয়ান ছেলেবেলা এমন সব আচরণ করতেন যে গ্রামের লোকে তাঁকে পাগল বলো আখ্যায়িত করত। তিনি তাঁর পিতার একমাত্র সনত্মান ছিলেন । তাই পিতা একদিন দৃঃখ করে বলেছিলের”আল্লা তুমি আমার একটি মাত্র ছেলে দিলে তাও দিলে পাগল!’পিতার এরূপ দুঃখ প্রকাশের পর পরই তাঁর ভিতর যে অলৌকিক ড়্গমতা ছিল তাঁর বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তার এ অলৌকিক ড়্গমতার বহিঃপ্রকাশ যে কিভাবে ঘটে সে m¤^‡Ü তাঁর জন্মস্থান যাত্রাপুরা ধোপাদী প্রভৃতি গ্রামে একটি কিংবদনত্মীা প্রচলিতত রয়েছে বলুর বয়স যখন ১০/১২ বছর তখন একদিন তার পিতার কাছে আব্দার জানায় যে সে মাঠে গরম্ন চরাতে যাাাবে। পিতা প্রথমতঃ রাজি হতে চানন্ি‌ । পরে ছেলের আব্দার উপেড়্গ করতে না পারায় রাজি হন । অনুমতি পেয়ে সে যায় গরম্ন চরাতে। মাঠে যেয়ে গরম্নগুলি লোকের ড়্গেতের মধ্যে দেয় ছেড়ে। গরম্নগুলি তখন মনের আনন্দে পরের ড়্গেতের ফসল খেতে শুরম্ন করে। গ্রামের লোকেরা এসে তার পিতার নিকট দেয় নালিশ। পিতা তখন একজন রাখালকে দিয়ে গরম্ন চরাবার সিদ্ধানত্ম নেন । বলু পিতার এ সিদ্ধানেত্মর কথা শুনে পরদিন খুব সকালে ঘুম থেকে উঠে গরম্ন নিয়ে মাঠে যায় এবং পূর্বের মত পরের ড়্গেতে ছেড়ে দেয়। গ্রামে লোক এবার তার গরম্নগুলি খোয়াড়ে দিবার জন্য ধরতে যায়। এমন সময় বলুর ইশারায় গরম্নগুলি কতগুলি বক পাখি হয়ে পার্শ্ববর্তী গাছে যেয়ে বসে। সবাই হতবাক হয়ে যায় এবং বলু যে একজন সাধারণ মানুষ নয় তা বুঝতে পারি। চারিদিকে ই ঘঁটনা ছড়িয়ে পড়ল। দেশ দেশানত্মর থেরক লোকের সমাগম হতে লাগল । এ সময় সে তার জন্মভ্থমি যাত্রাপুর ত্যাগ করে অন্য কোথাও চলে যাওয়ার সিদ্ধানত্ম নেয় । কিন্তু তার পিতা তাকে যেতে দিলেন না । গ্রামের কোন একটি স্থানে তার একটি আসত্মানা তৈরী করে দেন । বলু কিছুদিন এখানি অবস্থান করে। তারপর এ স্থান ত্যাগ করে অন্যদিকে চলে যায়।

এই কিংবদনত্মরি উপর ভিত্তি করো যাত্রাপুর ধোপাদী প্রভৃতি গ্রামের লোকশিল্পীর একটি গান রচনা করেছেন। দল বেঁধে এই লোকশিল্পীরা লোকের বাড়ি বাড়ি এই গানটি গেয়ে বেড়ান। গ্রাম্য ভাষায় এ গানের নাম ফোলই গান । এ গানের কয়েকটি চরণ নিম্নরূপঃ

ছুটি বিশ্বাস বলে আল্লা কপালেতে ছিল,
একটা ছেলে দিলে বাবা পাগল কেন হলো।
ঐ কথা শুনে বলু নড়ি (লাঠি) হাতে নেয়,
নড়ি হতে নিয়ে বলু গরু রাখতে যায়।
গরু রাখতে যায় বলু ব্যাদন বিলের মাঠে,
গরু রাখতে যেয়ে বলু মাঠের ধানও খাওয়াই।
-------------------------------

যাহোক তাঁর এই অলৌাকক ক্ষমতার প্রকাশ ঘটার পর পিতার অনুরোধে কিছুদিন যাত্রাপুর অ্‌বস্থান করে,পরে ধোপাদী গ্রামে য়েয়ে অবস্থান গ্রহণ করেন। এখানে আসার পর একই ভাবে বিভিন্ন স্থান থেকে অসংখ্য মানুষের ভীড় জমতে থাকে তার কাছে। অনেকেই তার কাছে দীড়্গা গ্রহণ করতে চায়। এ সময় তিনি বশির শাহ্‌ নামক ব্যক্তিকে দীক্ষা দেন। তিনিও বলুদেওয়ানের মত ক্ষমতা প্রাপ্ত হন। এরপর তিনি এ স্থান ত্যাগ করে বেশ কয়েকটি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন, যেমন- মুক্তদাহ, যশোর, ভেন্নাবেড়ে ও ভারতের পশ্চিম বাংলার কয়েকটি স্থান। এ সকল স্থানে আজও একটি করে দরগাহ রয়েছে। সর্বশেষে অবস্থান নেন তার মামা বাড়ীর গ্রাম হাজরাখানায়। এবং এখানেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

এতো গেল দ্বিতীয় মতের কথা। এবারে দেখা যাক প্রথম মতে কি বলে। এ মতানুসরে- বলুদেওয়ান ছোট বেলায় পিতৃহারা হন। পিতার মৃত্যুর পর তার মা তাকে নিয়ে বলুর নানা বাড়ী হাজরাখানা গ্রামে চলে আসেন। এখানেই তিনি বড় হতে থাকেন। তারপর একদিন কোন একটি ঘটনার মধ্যেদিয়ে তার অলৌকিক ড়্গমতার প্রকাশ ঘটে। এই অলৌকিক ড়্গমতার প্রকাশ যে কি ভাবে ঘটে সি m¤^‡Ü বেশ কটি কিংবদনত্মী প্রচলিত রয়েছে। এক কিংবদনত্মীতে প্রকাশ বলুর মামারা ছিল গরীব ্‌ তাই সে পরের বাড়ী নির্দিষ্ট মজুরীতে কাজ করত অর্থাৎ মাইনে থাকত । একদিন গৃহস্থ তাকে মাঠে যেয়ে সরিষা মাড়াই করতে বলে । কিন্তু সে তা না করে সরিষার গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সংবাদ গৃহস্থের কানে পৌছিলো তিনি তাৎড়্গণিক মাঠে যেয়ে দেখেন সরিষা পুড়ে শেষ। তাই গৃহস্থ বলুকে মারবার জন্য ্‌উদ্যত হয় । বলু হাসতে হাসতে বলে- অত বকাবকি না করে বাড়ী থেকে বসত্মা নিয়ে আস।” তিনি অগত্যা তাই করলেন। তারপর ছাই উড়িয়ে দেখা গেল একটি সরিষায়ও আগুন ধরেনি। শুধুমাত্র সরিষার গাছগুলি পুড়ে গেছে। সবাই অবাক হয়ে গেল, এ ঘটনা চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ল। দুর দুরানত্ম থেকে অগনিত মানুষ ভীড় জমাতে াকে তার কাছে। আর এক কিংবদনত্মীর মতে- গ্রামের একটি লোক রসের চুলায় জ্বাল দিচ্ছিল, এমন সময় বলু ওখানে যায়। বলু আসার পর লোকটি তাকে উক্ত চুলায় একটু জ্বাল দিয়ে দিতে বলে। তারপর ঐ ব্যক্তি জ্বালানী আনতে পাশেই কোথায় যায় । জ্বলানিী নিয়ে আসার পর দেখেত যে বলু চুলার আগুনের মধ্যে পা ঢুকিয়ে বসে আছে। চুলা জ্বলছে দউ দাউ করে। নিকটে আসতেই বলু তার পা বের করে নেয়। লোকটি তখন বলুর পা পরীড়্গা করে দেখে যে, পা অড়্গত অবস্থায় রয়েছে। তখন সে অবাক হয়ে যায় এবং বলু যে অলৌকিক ড়্গমতা সম্পন্ন একজন বিশেষ মানুষ তা বুঝতে পারে। এ ধরনের অসংখ্যা কিংবদনত্মী রয়েছে তার অলৌকিক ড়্গমতার প্রকাশ সম্পর্কে । তবে তার সবকটি কি আর এই ¯^í পরিসরে দেওয়া সম্ভব! যা হোক যে কোন একটি ঘটনার মধ্যেদিয়ে তার অলৌকিক ক্ষমতার বহিঃপ্রকাশ ঘটে। তখন দুর দুরানত্ম থেকে মানুষের ভীড় জমতে থাকে তার কাছে। এ ঘটনার পর তার মা লোকলয় থেকে একটু দুরে বনের মধ্যে একটি একটি মাটির ঘর তৈরি করে দেন । তখন থেকে তিনি ওখানেই অবস্থান করা শুরম্ন করেন ।এর পর তিনি এ স্থান ত্যাগ করে বেশ কয়েকটি স্থানে অবস্থান গ্রহণ করেন। এ সকল স্থানে আজও একটি করে দরগাহ রয়েছে। তবে শেষ জীবনে তিনি হজরাখানা গ্রামেই অবস্থান নেন এবং এখানেই মৃত্যুবরণ করেন। এতো গেল পীর বলুদেওয়ানের জীবন কাহিনী। বাকী রইল তাকে উদ্দেশ্য করে যে মেলাটি বসে তার উৎপত্তি কাহিনী । এই মেলাটির উৎপত্তি কাহিনী m¤^‡Ü কোন তথ্যই আজ পাওয়া যায় না । তবে অনেরকের ধারণা পীর বলুদেওয়ান বেঁচে থাকা অবস্থায় এলাকার লোকে তাঁর নামে বিভিন্ন প্রকার দ্রব্য সামগ্রী উৎসর্গ করত বা মান্নত করত । তারা যে উদ্দেশ্যে এ কাজ করত তা সফল হতো। তাঁর মৃত্যুর পর এ অবস্থা অব্যহত থাকে। এলাকার জনগন এবার পীরের নামে Dr¯^M©K…Z পণ্য সামগ্রী নিয়ে তাঁর মাজারে হাজির হতে থাকে বিশেষ একটি দিনে-পীরের মৃত্যু দিনে। ফলে বেশ কিছু লোকের সমাগম হতো এখানে। এই সুযোগে গ্রামের ময়রা তার মিষ্টান্ন দ্রব্য নিয়ে দোকান দিয়ে বসে। তারপর একে একে অনেক ধরনের পণ্য সমগ্রীর সমাগম ঘটতে থাকে ঐ বিশেষ দিনে। এ ভাবে এটি রূপ নেই মেলা আকারে। পরে যে কোন কারণে মেলাটি স্থানানত্মরিত হয় পেটভরা গ্রামে। এখানেও দেখা দিল সমস্যা। পূণরায় এটা স্থানানত্মরিত হয়ে হাজরা খানা গ্রামের ”পীর বলুদেওয়ান দাখিলা মাদ্রাসা” প্রাঙ্গণে আসে। আর একবার সমপ্রসারিত হয়ে মেলাটি বর্তমান জায়গায় আসে। বর্তমানে একটি কমিটির মাধ্যমে এ মেলাটি সুষ্টভাবে পরিচালনা করা হয়ে থাকে। এ মেলাটি আজ এ অঞ্চলে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেছে । ঢোল নেই, সহরত নেই, নেই কোন প্রচার অথচ সবাই জানে ভাদ্র মাসের শেষ মঙ্গল বারে মেলা বসবে। চৌগাছা উপজেলার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল ছাড়াও ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া,সতক্ষীরা , নড়াইল, মনিরামপুর, কেশবপুর, যশোর প্রভৃতি আঞ্চল হতে মানুষের সমাগম ঘটে এখানে। দোকানীরা ট্রাক, ভ্যান এবং অন্যান্য যানবহনে করে তাদের পণ্যদ্রব্য নিয়ে মেলার আগের দিন হাজির হয়। অনেকে রাতের বেলা দোকান প্রস্তুতে ব্যসত্ম থাকে। আশ-পাশের গ্রামেই তারা ঐ রাত্রে অবস্থান করে। পরদিন সকালবেলা পণ্য দ্রব্য সাজিয়ে নিয়ে বসে । চারিদিক থেকে লোকের সমাগম ঘটতে থাকে। অনেকের হাতেই থাকে পীরের নামে মান্নত করা দ্রব্য সমগ্রী। আবার অনেকে খালি হাতেই আসে। এ গ্রামে পৌছে গ্রমে তারা তাদের দ্রব্যগুলি পীরের মাজারে অর্পণ করে পরে মেলায় যায়। যারা খালি হাতে যায় তারা সরাসরি মেলায় হাজির হয় । মেলার আকর্ষণীয় জিনিষগুলির মধ্যে যেগুলি দর্শকের মন কেড়ে নেয় সেগুলি হল মাটির পুতুল, রঙিন হাড়ি বাটি, ছেলেমেয়েদে খেলনা, বেলুন, কাঠের তৈরি আসবাব পত্র প্রভৃতি। এ ছাড়াও মাছ তরকারী থেকে শুরু করে সকল প্রকারের জিনিষপত্র ওঠে এই মেলাটিতে এমন কি কেউ যদি চুল ছাটাতে চায় তবে তাও সম্ভব। পীরের এই মৃত্যু দিবসে বিভিন্ন আঞ্চল হতে আগত ভক্তবৃন্দ মাজার শরীফে এক মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করেন। এবং পীরের রম্নহের মাগফেরাত কামনা করেন। এ ছাড়াও মাজারে আগত খাদ্যদ্রব্য মেহমানদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

মেলাটি আজ এ অঞ্চলের সংস্কৃতিতে এক ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। হাজরাখানা এবং পার্শ্ববর্তী গ্রামের লোকেরা মেলা উপলড়্গে তাদের মেয়ে জামাই নিয়ে আসে, দেয় ন্থতন পোশাক পরিচ্ছদ। ঈদের সময় মেয়ে জামাই না আনলেও মেলার সময় অবশ্যই আসতে হবে। এই মেলার একটি বিস্ময়কর দিক হলো প্রতি বছর ঐ মেলার দিনে বৃষ্টি হবেই । এর কোন রকম ব্যতিক্রম ঘটেনি। এখানকার লোকেরা বলো এই পীরের অছিলায় এ গ্রামে কোন বড় রকমের মহামারী হয় না।

এ মেলাটি যেমন প্রচুর লোকের মনে আনন্দ দেয় তেমনি আবার কিছু কিছু ঘটনা তাদেরকে পীড়া দেয় । মেলার দিনে অনেক লোকের সমাগম ঘটে বিধায় কিছু কিছু উচ্ছ্রঙ্খল ছেলেরা মেলায় আগত মেয়েদের উত্যাক্ত করে। এটা খুবই দুঃখজনক ব্যাপার। তাদেরকে ¯^ib রাখা দরকার যে , এ মেলাটি একটি পবিত্র দিনে বসে যেদিন একজন প্রখ্যাত আউলিয়ার মৃত্যু ঘটে। মেলাটির আর একটি খারাপ দিক হলো এখানে অনেক জুয়া খেলার আসর বসে, যা সমাজ বিরোধী কাজ বলে পরিগণিত । এ ধরণের কর্মকাান্ড ঘটতে দেওয়া মোটেও উচিৎ নয় ।

বাংলাদেশের দড়্গিণ পশ্চিম কোণে যশোর জেলায় যে মেলাটি আজ এ অঞ্চলের মানুষের মনে আনন্দ যোগায়,সে মেলাটি টিকিয়ে রাখার ব্যাপারে সরকারের কোন দৃষ্টিনেই । কিন্তু এমনটি হওয় উচিৎ নয় । সবার উচিৎ এটাকে কিভাবে উন্নত করা যায় সেদিকে দৃষ্টি দেওয়া । অননত্মকাল ধরে টিকে থাকুক মেলাটি, আনন্দে ভরিয়ে তুলুক মানুষের মন । এ কামনা।

 

This free website was made using Yola.

No HTML skills required. Build your website in minutes.

Go to www.yola.com and sign up today!

Make a free website with Yola