|

মুক্তিযুদ্ধে চৌগাছার গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় : যুদ্ধ জয়ের দিনগুলি

ইন্দ্রজিৎ রায়

১৯৭১ এ পাকিসত্মানী সেনা ও এদেশের ঘাতক দালালদের নির্মম অত্যাচারে ইতিহাসের সবচেয়ে জঘন্যতম মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার হয় নিরপরাধ মানুষ। বর্বোরোচিত অত্যাচার নির্যাতন কোন নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ ছিলনা । ছড়িয়ে পড়েছিলো সারা দেশে। মানবতাবিরোধী কর্মকান্ডের প্রতিবাদে ফুসে ওঠে বাঙালি কৃষক শ্রমিকসহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ। প্রতিরোধ গড়ে তোলে মানুষ। এসময় সারা দেশের ন্যায় যশোরের চৌগাছার নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঝাপিয়ে পড়ে মুক্তির সংগ্রামে। তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের আইন ও বিচার মন্ত্রী চেীগাছার সিংহঝুলি গ্রামের কৃতি সনত্মান তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান শহীদ মশিয়ুর রহমানের নেতৃত্বে চেীগাছার মানুষ সংগঠিত হয়ে দুর্বার প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এসময় অধিকাংশ মানুষ জীবন রড়্গার তাগিদে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকে সীমানার ওপারে। কিন' চেীগাছার অসংখ্য দেশপ্রেমিক মুক্তিকামী সনত্মান দেশের জন্য লড়েছেন। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে চেীগাছার নাম অবিস্মরণীয় হয়ে আছে। শহীদদের রক্তে চৌগাছার মাটি ধণ্য।জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৭মার্চের ভাষনের পরে দেশের মুক্তিকামী মানুষ “জয় বাংলা”/ তোমার আমার ঠিকানা পদ্মা-মেঘনা-যমুনা” শেস্নাগানে রাসত্মায নেমে আসে। জনগণের গণ বিস্ফোরণে পাকিসত্মানী শাসক গোষ্ঠীর সিংহাসন কেপে যায়। এতে ২৫ মার্চ কালো রাতে এদেশের নিরস্ত্র নিরীহ বাঙালির উপর হামলা চালানো হয়েছিল। এই কালো রাতেই তৎকালীন প্রাদেশিক পরিষদের আইন ও বিচার মন্ত্রী চেীগাছার সিংহঝুলি গ্রামের কৃতি সনত্মান তৎকালীন বোর্ড চেয়ারম্যান শহীদ মশিয়ুর রহমান কে নিজ বাড়ী থেকে তুলে নিয়ে যায় পাক হনাদার বাহিনী। তার এই গ্রেফতারের প্রতিবাদে ২৭ মার্চ মুক্তিকামী মানুষ সেনানিবাস ঘেরাও করলে পাক হানাদাররা চৌগাছার খোদ্দ সিংহঝুলি(বর্তমানে মশিয়ুরনগর) সহ বিভিন্ন স'ানে অগ্নি সংযোগ করে বাড়ী ঘর পুড়িয়ে দেয় । ৩০মার্চ সেনানিবাসে বেঙ্গল রেজিমেন্টে এক বিদ্রোহে ৫০ জন পাক সেনা নিহত হয়। পরবতীতে ২৩ এপ্রিল পাকহানাদার বাহিনী নির্মম নির্য়াতন করে তৎকালীনমন্ত্রী মশিযুর রহমানকে হত্যা করে।

তার হত্যাকান্ডের পর চেীগাছার মানুষের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন প্রজ্জ্বলিত হয়। তারপর ১০ মে ক্যাপ্টেন নাজমুল হুদার নেতৃত্বে চেীগাছা ও মাশিলা অঞ্চলে টহলদার পাকবাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। এই যুদ্ধে ৮জনপাকসেনা ও ২ জন মুক্তি সেনা নিহত হয়। ১৫ মে ক্যাপ্টেন হুদার কাশীূপুর বিওপি এলাকাতেঅতর্কিত হামলা করে ৬ জন পাক সেনা নিহত ও পৃচুর াস্ত্র ছিনিয়ে আনেন। একই এলাকায় ২৭ মে ক্যাপ্টেন হুদার নেতৃত্বে পাকবাবিনীর সাথে দুটি সংঘর্ষ হয় । একটি যুদ্ধে ১১জন নিহত অপরটিতে ৪ জন ধরা পড়ে। অপর যুদ্ধটি কাশিপুর বিওপিতে পাকিসত্মানী ২৪তম এফএফ এর দুটি কেম্পানীর সাথে মুক্তি বাহিনীর তুমুল যুদ্ধ হয় ।এ যুদ্ধে ক্যাপ্টেন তেীফিক-ই- এলাহী ও সুবেদার মণিরম্নজ্জামান ক্যাপ্টন হুদাকে সহযোগিতা করেন। এ যুদ্ধে সুবেদার মণিরম্নজ্জামান শহীদ হলেও ৬০ জন পাক সেনা খতম করে মুক্তি বাহিনী বিরাট সাফল্য অর্জন করে। ২৭জুন কাশিপুরে মুক্তিবাহিনীর সঙ্গে নপাক হানাদার বাহিনীর এক রক্তড়্গয়ী যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধে ১২ জন পাক সেনা নিহত হয়। ৩ জুলাই মাশিলায় এক যুদ্ধে মুক্তি বাহিনীর ৪জন পাক সেনা নিধন করে। ৭ জুলাই ঢেকিপোতায় একজন অফিসার সহ ৮জন পাক সেনাকে খতম করে মুক্তিবাহিনী। ৮জুলাই কাশিপুরে সকাল ৯টা থেকে ৪ টা পর্যনত্ম পাকহানাদার বাহিনী একধারে মুক্তি বাহিনী কে আক্রমন করে । কিন' শেষ পর্যনত্ম নিজেদের ৩ সেনাকে হারিয়ে পাক বাহিনী পিছহটে যায়। ১০ জুলাই কাশিপরে পুতে রাখা মাইনে ১পাক সেনা নিহত হয়। ১৭ জুলাই গদাধরপুরে এক যুদ্ধে মুক্তি বাহিনী ৩পাক সেনাকে খতম করে। ২১ জুলাই কাবিলপুরে মুক্তি সেনাদের সাথেপাক বাহিনীর যুদবধ হয়। এই যুদ্ধে পাক বাহিনীর ৮ জন সেনা সিহত হয়। ৩০ জুলাই কাবিলপুর ও ঢেকিপোতায় মুক্তিবাহিনী পাকহনাদার বাহিনীর অনেক সেনাকে নিহত ও আহত করে। ১৫ আগস্ট কাবিলপুরে পৃথক পৃথক যুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধারা বহুসংখ্যক পাক সেনা ও রাজাকার খতম করে । ৫ সেপ্টম্বর কাশিপরে এক যুদ্ধে বীরশ্রেষ্ঠ ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শহীদ হন । ৯ সেপ্টেম্বর সাঞ্চাডাঙ্গায় ২জন পাক সেনা নিহত হয়। ১৪ সেপ্টম্বর মাশিলায় এক যুদ্ধে ৭ জন পাকসেনা নিহত হয়। ১১ অক্টোবর সাঞ্চাডাঙ্গায় এক যুদ্ধে নিয়মিত বাহিনীর হামলায় ১২জন পাক সেনা নিহত হয়। ২৪ অক্টোবর সলুয়ায় মুক্তি বাহন ১১ রাজাকার কে খতম করে। ২৮ অক্টোবর শত্রম্নপড়্গ গরিবপুর ও মাশিলায় এমবুশ করলে মুক্তিবাহিনী তাদের উপর অতর্কিত আক্রমন করে ৩ জনকে খতম করে। ২৪ নভেম্বর গরিবপুরে মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সঙ্গে পাকবাহিনীর এক ট্যাঙ্ক যুদ্ধ হয়।এই ট্যাঙ্ক যুদ্ধে পাক্তিানীদের ১৪টি ট্যাঙ্ক ছিল। যুদ্ধে পাক মিত্রবাহনী ৫ ট্যঙ্ক নস্ট হলেও পাক বাহিনী তাদের সব কয়টি ট্যাঙ্ক হারায়। এই যুদ্ধ গরিবপুর -সিংহঝুলি মাঠে মুক্তি বাহিনীর সাথে পাক বাহিনীর সম্মুখ যুদ্ধে অস্ত্র শেষ হয়ে গেলে হাতাহতিতে রূপ নেয়। যা মলস্নযুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে মুক্তি বাহিনী জয় লাভ করে। আধুনিক অস্ত্রের যুগে বাংলাদেশ তথা আধুনিক বিশ্বের ইতিহাসে কোন যুদ্ধে এমন মলস্নযুদ্ধ আর হয়নি। অবশেষে ২৭ নভেম্বর চেীগাছা মুক্তি বাহিনীীর দখলে আসে। পরবতীতে ৬ ডিসেম্বর আনুষ্ঠানিকভাব চৌগাছা শহর মুক্ত হয়। স্বাধীনতা যুদ্ধে চৌগাছার ইতিহাস গৌরবোজ্জ্বল।

তথ্যসূত্রঃ ২০০১সালে যশোর জেলা প্রশাসন প্রকাশিত স্মরনিকা“ স্বাধীনতা”

 

This free website was made using Yola.

No HTML skills required. Build your website in minutes.

Go to www.yola.com and sign up today!

Make a free website with Yola